রাবার ড্যাম

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদীর উপর রাবার ড্যাম

কৃষি পণ্য ও ব্যবসা দিনাজপুর প্রতিদিন ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদীর উপর রাবার ড্যাম

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে কাঁকড়া নদীর উপর রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে কৃষির। অনাবাদি জমিগুলো রূপান্তর হয়েছে আবাদিতে। সেচ সুবিধার আওতায় আসায় লাভবান হচ্ছে নদীর দুই কুলের প্রায় পাঁচ হাজার কৃষক ও দুই হাজার জেলে পরিবার। কর্মসংস্থান হয়েছে হাজারো বেকারের। এছাড়া কৃষি, মাছ চাষসহ এ প্রকল্পকে ঘিরে তৈরি হয়েছে পর্যটন এলাকা।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কাঁকড়া নদীর উপরে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ড্যামটি নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর উত্তর দিকে যতদুর চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। কোথাও ১৫ ফুট, আবার কোথাও ২০ ফুট গভীরতা লক্ষ্য করা গেছে। সারাবছরই নদীতে পানি থাকে। আর জেলেরা সারা বছর মাছ ধরে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে ।

রাবার ড্যামের উপরে একটি ফুট ব্রিজ ও পাশে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কংক্রিটের ঢালাই করা ছাতা, বসার বেঞ্চ ও বাংলো ঘর নির্মিত হয়েছে। এতে তৈরি হয়েছে পর্যটন স্পট। ড্যামের পশ্চিম-উত্তর দু’দিকে রয়েছে শতাধিক দোকান। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে বেকারদের। রাবার ড্যামের উপরে ফুট ব্রিজ হওয়ায় সাইতাড়া, আব্দুলপুর ও আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের মানুষের মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, চিরিরবন্দর উপজেলার উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০০১ সালে উপজেলার কাঁকড়া নদীর উপরে ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩০ ফুট দীর্ঘ রাবার ড্যামটি নির্মাণ করে দিনাজপুর এলজিইডি। এর ফলে উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই ও কাঁকড়া নদীর ১০ কিলোমিটার, পাশের ১২কিলোমিটার এবং কয়েকটি শাখা খালে সারাবছর পানি আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলার ১২ হাজার ২০৫ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার আওতায় এসেছে। রাবার ড্যাম নির্মাণের পর কুশলপুর, খোচনা, পশ্চিম সাইতাড়া, দক্ষিণ পলাশবাড়ী, উত্তর ভোলানাথপুর, আন্দারমুহা, অমরপুর, ভিয়াইল, কালিগঞ্জ, তালপুকুর, পুনট্রি, উচিতপুর, তুলশিপুর, নারায়ণপুর ও গোবিন্দপুর গ্রামের অনাবাদি জমিগুলো চাষ সুবিধার আওতায় এসেছে। এতে ৪ হাজার ৯৫০ জন কৃষক ড্যামের পানি দিয়ে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন।

সাইতাড়া গ্রামে কৃষক মো. এনতাজুল হক জানান, আমাদের জমিগুলো উর্বর হওয়া সত্ত্বেও সেচের অভাবে আগে অনাবাদি ছিল। রাবার ড্যাম হওয়ায় এখন চারটি করে ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে। আমন, ইরি, আলু, সরিষা, ভুট্টা, গমসহ অন্যান্য ফসলের চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি। চাহিদা অনুযায়ী নদী ও খাল থেকে পানি তুলে কৃষকেরা অনায়াসে জমিতে সেচ দিতে পারছেন। এতে ফসল উৎপাদন আগের চেয়ে অনেকগুণ বেড়েছে।

এনতাজুলের মতোই মত দিয়েছেন কৃষক পলাশ চন্দ্র, দেবেন্দ্র নাথ রায়, মশির উদ্দিন, বাবু অনিলসহ অনেকে। কাঁকড়া নদীর উপর নির্মিত রাবার ড্রাম হওয়ায় কৃষি জমির ফসলাদি বৃদ্ধিসহ মৎস্যজীবীদের জীবিকার জন্য নতুন করে ভাবতে হয় না বলে জানিয়েছেন।

চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা সিদ্দীকা  জানান, প্রতিদিন দর্শনার্থীরা রাবার ড্যাম প্রকল্প পরিদর্শনে আসছেন। শীত মৌসুমে এখানে অনেকে আসছেন বনভোজনে। রাবার ড্যাম শুধু কৃষকদের ভাগ্যই বদলায়নি, পুরো এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশেও এসেছে ভারসাম্য।

Dinajpur Today Facebook Page and Group

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *