চিরিরবন্দরে লকডাউনে বিপাকে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ

চিরিরবন্দরে লকডাউনে বিপাকে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ

দিনাজপুর প্রতিদিন দিনাজপুরের খবর মানুষের চাহিদা

চিরিরবন্দরে লকডাউনে বিপাকে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ

সরকারি নির্দেশনায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় করোনা ভাইরাস বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহর ও গ্রামাঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র কাঁচাবাজার, ওষুধের দোকান ও নিত্যপণ্যের দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।

ক্রেতা না থাকায় এসব দোকানও সন্ধ্যার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় জনশুন্য হয়ে পড়েছে রাস্তা-ঘাট। লকডাউনে চরম বিপদে পড়েছেন শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষজন। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে।

শহর ও গ্রামের রাস্তায় দু’একটি করে রিকশা, অটোরিকশা দেখা গেলেও ভাড়া পাচ্ছেন না চালকরা। ক্ষুদ্র ব্যবসায় বিভিন্নভাবে ঋণ করে দোকানপাট ও সংসার চালাতে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এছাড়াও তাগিদ রয়েছে সাপ্তাহিক কিস্তি প্রদানের।

সে কারণে এসব ব্যবসায়ীদের এখন মহাবিপদ। এসব পরিবারের কাছে লকডাউন এখন অনেক কষ্টের কারণ। যেন গোদের উপর বিষফোঁড়া। ঝুঁকি নিয়ে অনেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললেও ক্রেতার অভাবে ব্যবসায় কোনো বিক্রি নেই। এরপরও প্রতিদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয়েও অনেকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এদিকে, হোটেল শ্রমিক ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত শ্রমিক ও নিম্নআয়ের মানুষজনও পড়েছে চরম বিপাকে। কাজ নেই, নেই কোনো সহায়তা।

বিন্যাকুড়ি বাজার এলাকার রিকশাচালক শরিফুল ইসলাম, আবদুল মান্নান এবং নান্দেড়াই গ্রামের সেরাজুল ইসলাম জানান, একদিন রিকশা না চালালে খাবার জোটে না। তাই রিকশা নিয়ে সকাল থেকে ঘুরছি। রাস্তায় তেমন লোকজন নেই, তাই যাত্রী মিলছে না।

প্রতিদিন ৩০০-৪০০ টাকা রোজগার করি। বর্তমানে এমন অবস্থা রোজগার তেমন একটা নেই। আয় রোজগার করতে না পারলে কিস্তির টাকা দেব কি করে, পরিবারের মুখেও খাবার জুটবে না। আরেক রিকশাচালক নজরুল ইসলাম জানান, আমরা গরিব মানুষ প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে চাল-ডাল কিনে খাই।

বিধি নিষেধ থাকলেও উপায় নেই আমাদের। তাই সব বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেই রিকশা নিয়ে ঘুরছি। এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারেই থাকতে হবে। এ সময় যদি কেউ সাহায্য করতো অনেক উপকার হতো। সকলের কল্যাণের জন্যই সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু আশপাশে এমন অনেকেই রয়েছেন, যারা দিনের রোজগার দিয়ে সেদিনের আহারের ব্যবস্থা করেন।

এদিকে, উপজেলায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও মাইকিং করে দোকানপাট, যান চলাচল বন্ধ রাখাসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। আর এ নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রশাসনের পাশাপাশি কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার। প্রশাসন ও আইনশৃংখলা বাহিনী ব্যাপক কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

চিরিরবন্দরে লকডাউনে বিপাকে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ

Dinajpur Today

Leave a Reply

Your email address will not be published.