চীন আবার কাঁচামালের বাজারে, সংকটে দেশের ইস্পাতশিল্প

চীন আবার কাঁচামালের বাজারে, সংকটে দেশের ইস্পাতশিল্প

দিনাজপুর প্রতিদিন দিনাজপুরের খবর বাণিজ্য

চীন আবার কাঁচামালের বাজারে, সংকটে দেশের ইস্পাতশিল্প

রাজধানীর এবিজেড প্রপার্টিজের কর্ণধার এস এ ফয়সাল। করোনা শুরুর আগে রাজধানীর ইব্রাহিমপুরে ফ্ল্যাট বানানোর একটি প্রজেক্ট শুরু করে তাঁর প্রতিষ্ঠান। দোতলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালের মার্চে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর প্রায় এক বছর কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তিনি। গত এপ্রিল-মে মাসে আবার কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু তিনি যে খরচের পরিকল্পনা করেছিলেন, সেটি আর মিলছে না। করোনার আগে এক টন রডের দাম ছিল ৬০ থেকে ৬৫ হাজার টাকা। কয়েক মাস ধরে তা বেড়ে ৭০-৭৫ হাজার টাকায় উঠেছে। এক বছরের ব্যবধানে রডের দাম বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। ফয়সাল এখন আর আগের হিসাবে ফ্ল্যাট বানাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামাল স্ক্র্যাপের সংকট বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং স্ক্র্যাপ আমদানিতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূলত দেশে রডের দাম বেড়েছে।

দেশের শীর্ষ রড উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের উপব্যবস্থাপরিচালক তপন সেনগুপ্ত প্রথম আলোকে বলেন, করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বড় দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে নির্মাণকাজ চলছে। ফলে একদিকে রডের কাঁচামালের সংকট, অন্যদিকে জাহাজভাড়া কয়েক গুণ বাড়ার কারণে স্থানীয় বাজারে রডের দাম বাড়ছে। বাংলাদেশও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। শীত মৌসুমে রডের চাহিদা আরও বাড়বে। কাঁচামালের সংকট ও বাড়তি জাহাজভাড়া না কমলে রডের দাম আরও বাড়তে পারে।রডের কাঁচামাল হিসেবে এ দেশের ইস্পাত কোম্পানিগুলো স্ক্র্যাপ ও বিলেট ব্যবহার করে। সিংহভাগ স্ক্র্যাপই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বিশ্বে বাংলাদেশ হলো ১৩তম বৃহত্তম স্ক্র্যাপ আমদানিকারক দেশ। করোনার আগে আন্তর্জাতিক বাজারে স্ক্র্যাপের দাম প্রতি টন ২৫০ থেকে ৩০০ ডলার ছিল। এখন দাম বেড়ে ৫৬০ থেকে ৫৭০ ডলার হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি ২০ ডলার বেড়েছে।করোনার ধাক্কা কাটিয়ে বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আবার নির্মাণযজ্ঞ বাড়িয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় স্ক্র্যাপ মিলছে না। এদিকে এক যুগ পর চীন আবার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বিলেট, স্ক্র্যাপ কেনা শুরু করেছে। স্ক্র্যাপ থেকে বিলেট বানানো হয়। ফলে ভারত, রাশিয়া ও তুরস্ক থেকে বিলেট আমদানি করছে চীন। এতে স্ক্র্যাপের বাজারে বাড়তি চাপ পড়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published.