দিনাজপুরে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও জানে না কেউ

দিনাজপুরে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও জানে না কেউ

দিনাজপুর প্রতিদিন দিনাজপুরের খবর শিক্ষা ও প্রগতি স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

দিনাজপুরে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও জানে না কেউ

দিনাজপুর শহরের বালুবাড়িতে ‘বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র’ অবস্থিত। এর উত্তরে শহীদ মিনার মোড়, মাতৃসদন হাসপাতাল, উত্তর পশ্চিমে হাজী মোহাম্মদ দানেশের বাড়ি, দক্ষিণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কের পূর্বপাশে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ঠিক পশ্চিম পাশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাবার বাড়ি ‘তৈয়বা ভিলা’।

বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির ৫০০ গজের মধ্যে ৫টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল-কলেজ। চারপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এতসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এটিকে সবাই জানে কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে।

কেন বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির পরিচিতি নেই, কেনইবা শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানেন না, কেন এই বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে মানুষ কুষ্ঠ চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে জানেন, এমন নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক রোববার সকালে হাজির হন সেখানে। উত্তরও মিলেছে তবে সুখকর নয়।

বেলা সাড়ে ১১টায় বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহকারী শায়লা পারভীনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় তিনি বলেন, ‘বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩টি পদ রয়েছে। একজন মেডিকেল অফিসার, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহকারী। মেডিকেল অফিসার এখনো আসেননি। তিনি গর্ভবতী, অনেক সময় আসতে একটু দেরি হয়’।

তিনি বলেন, এখানে ওষুধের সংকট নেই, করোনাকালিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তেমন রোগী নেই। আজ ৩ জন শিক্ষার্থী এসে চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার ৭ জন ও বুধবার ১১ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা ও ওষুধ নিয়ে গেছে।

প্রচার-প্রচারণার অভাব রয়েছে কিনা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিভিল সার্জন অফিসের বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।’

দেখা গেছে, গেট সামান্য খোলা। দূর থেকে যে কেউ ভাববে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বন্ধ। প্রধান গেটে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির কোনো সাইনবোর্ড নেই। তবে প্রধান গেটে কুষ্ঠ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে।

গেটের দক্ষিণ পাশে ‘চিকিৎসায় যক্ষা ভালো হয়’ এবং উত্তরে ‘কুষ্ঠ স্বাস্থ্যকেন্দ্র’ লেখা দুটি নিয়ে মোট তিনটি সাইনবোর্ড রয়েছে। বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভেতরে গাছগুলোতে বক আর পানকৌড়ি বাসা বেঁধেছে। এই পাখিগুলোর মল দিয়ে গেট ও ভেতরে ঢোকার রাস্তা অপরিচ্ছন্ন অবস্থা, শ্যাওলাও জমেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে বালুবাড়ির বাসিন্দা সাংবাদিক নুর ইসলাম বলেন, বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির নাম আপনার মুখে প্রথম শুনলাম। এটা কোথায়? পরে জানার পর বললেন, হাসপাতালটির সামনে সাইনবোর্ড নেই, প্রচারণাও নেই, আমিই জানি না তো সাধারণ মানুষ জানবে কি করে।

বালুবাড়ির বাসিন্দা ওই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য ফয়সল হাবিব সুমনের কাছে জানতে চাইলে বলেন, বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি এখনো আছে। প্রায় সময় এখানে চিকিৎসক থাকে না। কোনো প্রচার প্রচারণা নেই, সামনে সাইনবোর্ড নেই। সিভিল সার্জনের উচিৎ স্কুলগুলোতে জানানো এবং সামনে সাইনবোর্ড টানানো। তা নাহলে এক সময় বিদ্যালয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি অকেজো হয়ে পড়বে।

সদর উপজেলার রমজান আলী নামে এক সরকারি স্কুলের শিক্ষক বলেন, এটা কোথায়? আগে তো শুনিনি ছাত্রদের জন্য এমন বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে।

এ বিষয়ে জানতে সিভিল সার্জনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে মোট ৩৭টি বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। যার মধ্যে দিনাজপুর জেলায় বালুবাড়িতে একটি।

সূত্রঃ Jago News

Dinajpur Today

দিনাজপুরে বিদ্যালয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও জানে না কেউ

Leave a Reply

Your email address will not be published.