পৌরসভার মেয়রের ‘দরজা বন্ধ-খোলার’ বক্তব্যে তোলপাড় দিনাজপুর

পৌরসভার মেয়রের ‘দরজা বন্ধ-খোলার’ বক্তব্যে তোলপাড় দিনাজপুর

দিনাজপুর প্রতিদিন রাজনীতি ও জনগন

পৌরসভার মেয়রের ‘দরজা বন্ধ-খোলার’ বক্তব্যে তোলপাড় দিনাজপুর

দিনাজপুরে একটি মানববন্ধনের পরিপ্রেক্ষিতে নিজের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দিয়ে আলোচনায় এসেছেন পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। এ নিয়ে শহরে মানুষের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউটের আয়োজনে পৌরসভার জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনে দিনাজপুর ইনস্টিটিউটের সহ-সভাপতি আ ন ম গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ। সঞ্চালনা করেন মানববন্ধন ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম মেহেরুল্লাহ বাদল।

বক্তারা বলেন, পৌরসভার জড়াজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার ও যানজট নিরসনের দাবিতে আমরা দিনাজপুরবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছি। আমরা যানজট ও আবর্জনামুক্ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর চাই। জনদুর্ভোগ লাঘবে ভাঙা রাস্তাঘাট, ড্রেন নির্মাণসহ সার্বিক উন্নয়ন চাই। পৌরসভার বর্তমান অদক্ষ কর্তৃপক্ষের কারণে ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর শহর আজ তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। তারা আরও বলেন, দিনাজপুর পৌরসভার উন্নয়ন এবং আধুনিক পৌরসভা গড়ার লক্ষ্যে দিনাজপুরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মানববন্ধন শেষে দুপুর ২টার দিকে সৈয়দ লতিফুল ইসলাম লিপন নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য সংবলিত ৬ মিনিট ২২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করা হয়।

ভিডিওতে দেয়া বক্তব্যে মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দিনাজপুরের সুশীল সমাজের যে প্রতিনিধিরা রাস্তাঘাট, ড্রেন, বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য আজকের মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছেন তাদের জন্য আমার পক্ষ থেকে দিনাজপুরবাসী হিসেবে ধন্যবাদ জানাই। তবে তারা যদি আরও আগে মানববন্ধন করতেন তাহলে আমরা হয়তো অনেক সুফল পেতাম।

এরপর তিনি বলেন, আজ সরকারে কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। এক সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিও ক্ষমতায় ছিল।বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে বিভিন্ন যে রকম কার্যক্রমগুলো করেছে সেগুলো কিন্তু পরবর্তী সরকার এসে বলতে পারবে না আওয়ামী লীগ করেছে। ঠিক তেমনিভাবে শহরে উন্নয়ন হলে কিন্তু কেউ বলবে না এটা মেয়র করেছে। এটার কিন্তু দায়িত্ব স্থানীয় সংসদ সদস্যের। স্থানীয় সংসদ সদস্য কিন্তু সে জায়গায় আমাদের সঙ্গে নেই।

‘আপনারা পার্শ্ববর্তী বিরল দেখেন, ফুলবাড়ী দেখেন, পার্বতীপুর দেখেন, অনেক জায়গায় বিএনপির মেয়র। আমি বিএনপি করি দেখে এখানে যে উন্নয়ন হবে না তা না। আপনারা জনগণ কিন্তু আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এনেছেন। আমি পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো আপনাদেরকে দেখতে বলব, বিরল বলেন, সেতাবগঞ্জ বলেন, ফুলবাড়ী বলেন, পার্বতীপুর বলেন; এ জায়গাগুলোতে কিন্তু অনেক ডেভেলপমেন্ট হয়েছে। ইনশাল্লাহ আজকে যারা ডেভেলপমেন্টের কথা বলেন তারা কিন্তু ডেভেলপমেন্টের পাশে থাকেন না। সাংবাদিক বন্ধুরা, আপনারা বলেন, একজন মেয়রের ক্ষমতা বেশি না কি সংসদ সদস্যের ক্ষমতা বেশি? এখানে সংসদ সদস্য যদি সেই সহযোগিতার হাত বাড়াতো অবশ্যই এখানে উন্নয়ন হতো। সেই জায়গা থেকে আপনারাই জানেন কেন উন্নয়ন হয়নি।’

‘আর বেশি কিছু বলবো না। আমি কারো বিরুদ্ধে বলার জন্য আসিনি। আমি কারও পক্ষে বলার জন্য আসিনি। এখানে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপটাই হচ্ছে প্রধান। সংসদ সদস্য যদি সহযোগিতা করতেন সেটার সুফল তারই ঘরে যেতো, মেয়রের ঘরে যেতো না। আজকে আপনারা চিন্তা করেন কোনো এলাকায় কোনো উন্নয়ন হলে কী বলে? চেয়ারম্যান করল, কাউন্সিলর করল, এটা কিন্তু বলে না। বলে কিন্তু সংসদ সদস্যের কথা। সেই জায়গায় আপনাদের বিবেকের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনাদের বলতে চাই যে আমাদের সম্মানিত যে সংসদ সদস্য আছেন উনি কেন এই কৃতিত্বটা নিতে পারেননি?’

উন্নয়নের ব্যাপারে পৌরবাসীকে আশ্বস্ত করে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র বলেন, ইনশাল্লাহ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমরা বিশাল একটি প্রজেক্ট পাচ্ছি। সেই প্রজেক্টের মাধ্যমে দিনাজপুরের রাস্তাঘাট, ড্রেন, মাকের্ট, ফল মার্কেট, বাস টার্মিনাল, ট্রাক টার্মিনাল থেকে আরম্ভ করে শিশুপার্ক থেকে আরম্ভ করে সবগুলোর উন্নয়ন হবে। যে উন্নয়নে আমরা দিনাজপুরবাসী পিছিয়ে ছিলাম, আপনারা মনে রাখবেন এক দরজা বন্ধ থাকলে, আরেক দরজা খোলা কিন্তু। সে জায়গায় আমরা ইনশাল্লাহ এগিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়রের দেওয়া বক্তব্যের পর মানুষের মধ্যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। মানুষের মধ্যে জানার আগ্রহ দেখা দিয়েছে মেয়রের কোন দরজা বন্ধ আর কোন দরজা খোলা রয়েছে। তিনি আসলে কোন দরজার দিকে এগোতে চান। নাকি তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করতে যাচ্ছেন।

দিনাজপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজু জাগো নিউজকে বলেন, উনি বক্তব্যে সম্পূর্ণ মিথ্যাচার করেছেন। সামনে অনেক টাকার বরাদ্দ আসছে। বরাদ্দ পেতে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যাচার করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর পৌরসভার সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জাগো নিউজকে বলেন, আমি কোনো মিথ্যাচার করিনি। যা সত্য তাই বলেছি। আর আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, আল্লাহ একদিকে দরজা বন্ধ করে দিলে অন্যদিকে দরজা খুলে দেন

সূত্রঃ Jago News

Dinajpur Today

পৌরসভার মেয়রের ‘দরজা বন্ধ-খোলার’ বক্তব্যে তোলপাড় দিনাজপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published.