দীপশিখা স্কুল দিনাজপুর

দীপশিখা স্কুল, রুদ্রপুর, বিরল, দিনাজপুর

দিনাজপুর প্রতিদিন ভ্রমণ ও দর্শনীয় স্থান শিক্ষা ও প্রগতি
দীপশিখা স্কুল, রুদ্রপুর, বিরল, দিনাজপুর
২০০২ সাল, অস্ট্রিয়ার লিনজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অল্প কজন ছাত্রছাত্রী নিয়ে গড়া স্থাপত্যবিদ্যা বিভাগের টোবিয়াস হাগলাইটনার, আনা হারিঙ্গার, পেটরা রাগের আর গুনার ভিলহেল্মকে পাঠানো হলো তাদের নতুন অধ্যয়নস্থল: বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরের বাইরের ছোট্ট এক গ্রাম রুদ্রপুরে।
বাংলাদেশে আসার আগে তাদের জানানো হলো, এটি বাংলাদেশের দরিদ্রতম গ্রামের একটি এবং সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম। ওখানে তাদের পড়াশোনার মূল লক্ষ্য হবে: বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ছোট গ্রামটিকে ভালো করে খুঁটিয়ে দেখা ও বোঝার চেষ্টা করা।
নির্দিষ্ট সময় এই গ্রামে কাটানোর পর ছাত্রছাত্রীর দলটি রুদ্রপুর নিয়ে তাদের বিচার-বিশ্লেষণ, ওখানকার ঘরবাড়ির ছবি, স্কেচ স্যুটকেস বোঝাই করে নিয়ে ফিরে এল অস্ট্রিয়ায়। এদের মধ্যে একজন আনা হারিঙ্গার সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি তাঁর অভিসন্দর্ভ বা গবেষণামূলক নিবন্ধটি তৈরি করবেন রুদ্রপুরের ওপর। এবং পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় স্থাপত্যকৌশল কাজে লাগিয়ে আধুনিক স্থাপত্যকলার সমন্বয়ে একটি স্কুল বানানো।
অতি উচ্চমানের একটি অভিসন্দর্ভ রচিত হলো, যা শুধু কাগুজে নয়, সঠিক পরিকল্পনা অনুসরিত হলে এর বাস্তব রূপায়ণও সম্ভব। আনার এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে এগিয়ে এল জার্মানির উন্নয়ন সংস্থার আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, আর বাংলাদেশ থেকে সাড়া দিল বেসরকারি সেবা সংস্থা দীপশিখা। কিন্তু পুরো পরিকল্পনার পালে সত্যিকারের হাওয়া লাগল আনার সঙ্গে জার্মান স্থপতি একে রসভাগের সঙ্গে সাক্ষাতের পর। আনার পরিকল্পনা দারুণভাবে আত্মস্থ করতে সক্ষম হলেন একে। আনার পরিকল্পনা আর একের স্থাপত্য জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা—দুইয়ের সমন্বয়ের ফল হলো রুদ্রপুরের স্কুল। বার্লিনের এক ক্যাফেতে বসে আনা একে রসভাগকে এক টুকরো ন্যাপকিনে স্কেচ এঁকে তাঁর স্বপ্নের স্কুলের বয়ান দিয়েছিলেন। খুবই সাধারণ স্থাপত্যরীতি: প্রচলিত রীতি মেনে একটি দোতলা স্থাপনা তৈরি হবে, যার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে একটি উন্মুক্ত সিঁড়ি। নিচের তলায় থাকবে তিনটি শ্রেণীকক্ষ, ওপরের তলায় থাকবে একই রকম তিনটি পড়ার ঘর—এগুলোর সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করবে দুটো হলঘরের মতো খোলা কক্ষ। ওপরের তলার অধিকাংশ তৈরি হবে বাঁশ আর কাঠে। নিচের অংশ তৈরি হবে মোটা মাটির দেয়াল দিয়ে। গুহাসদৃশ কিছু খোলা ঘর থাকবে, যেখানে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা ও খেলাধুলা করবে।
আগা খান ফাউন্ডেশন ২০০৭ সালে সেরা স্থাপত্যের জন্য নির্বাচিত করে রুদ্রপুরের বাঁশ আর মাটির তৈরি স্কুলটিকে। পুরস্কারে বিচারকদের মন্তব্যে বলা হয়: দৃষ্টিনন্দন দোতলা এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তৈরি হয়েছে স্থানীয় স্থাপত্যরীতি ও মালমসলায়। এতে ওই অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও পরিচয় প্রতিফলিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *