হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষক তিনি

হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষক তিনি

অপরাধ ও বিচার দিনাজপুর প্রতিদিন দিনাজপুরের খবর
হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষক তিনি, অনেক অমানুষ কে মানুষ করার ব্রত নিয়েই শিক্ষকতা পেশায় এসেছিলেন।  জন্মের পর বড় হয়েছেন নানা বাড়িতে। ৬ মামার একমাত্র ভাগিনা, মায়ের একমাত্র সন্তান ছিলেন। মামাদের সহযোগিতায় ভার্সিটি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন পরে চাকরি পেয়েছেন চিরিরবন্দর ডিগ্রি কলেজে।
আমার দেখা সে সময়ের সবচেয়ে স্মার্ট আর পরিছন্ন মানুষ তিনি। বিয়ের পরেই আমাদের ছেড়ে চলে যান বাবার ভিটে নান্দেড়াই গ্রামে। সংসার জীবনে কোনদিনই সুখে ছিলেন না, নানা বিড়ম্বনায় ২ ছেলে আর এক মেয়ের জনক ছিলেন। সন্তানদের এতটাই ভালবাসতেন যে শাসনের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। ছেলেদের চাহিদা পূরন করতে গিয়ে বেতনের টাকায় কুলাতে পারতেন না, আবাদের সব জমি উচ্চ মূল্যে বন্ধক রেখেছেন, ধার দেনায় জর্জরিত ছিলেন।
খুনি ছেলেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেক্সটাইল এ বিএসসি করিয়েছেন। সর্বশেষ ২ সপ্তাহ আগে ছেলের চাকরির জন্য কতবার আমার কাছে এসেছেন, বুকভরা বিশ্বাস ছিল ছেলে হয়তো ভাল হয়েছে। অবশেষে স্নেহের ছোট ভাই গুলজারের সহায়তায় একটা গার্মেন্টসে চাকরি হয়।কিন্তু কুত্তার কোন পরিবর্তন হয়নি, নেশা না পেয়ে উম্মাত আচরণ শুরু করে, অবশেষে আবারো বাবা ইমদাদুল এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঢাকায় গিয়ে ছেলে রুপি ঘাতক আজরাইল কে বাড়ি নিয়ে আসেন,সে রাতেই শেষ রাত?
শেষ হয়ে যায় সব কিছু, চিরিরবন্দরের ইতিহাসে যোগ হয় নুতন আলোচনা ছেলের হাতে প্রফেসর বাবা খুন। কতটা নির্মম আর নিষ্ঠুরতার সাক্ষী হলাম আমরা, ২১ সালেই প্রিয় বাবা সহ পরিবারের আপন তিনজনের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই একটা ভয়ানক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম আমরা।
চিরিরবন্দরের প্রশাসনের প্রতি বিনিত অনুরোধ, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশজুড়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চললেও চিরিরবন্দর এর বাইরে কেন? চিরিরবন্দরের চিহ্নিত মাদক কারবারিরা ধরা ছোয়ার বাইরে। তাদের ক্ষমতা কি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার চাইতে শক্তিশালী?
পাড়ায় পাড়ায় গঠিত হয়েছে কিশোর গ্যাং,করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সুযোগে গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা আর লুডু জুয়া চলছে। ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে অবাধ্য সন্তানের সংখ্যা, নিরুপায় পিতামাতার আল্লাহর কাছে দোয়া ছাড়া আর কিছুই করার নাই।
দেশের অন্যতম আত্মহত্যা প্রবণ এলাকায় পরিনত হয়েছে আমাদের উপজেলা,  সব মিলিয়ে এসব বিষয়ে প্রথমে কাউন্সিলিং পরবর্তীতে আইনের প্রয়োগ চাই।
যারা এসব উঠতি ছেলেদের হাতে মাদক তুলে দিচ্ছে তাদের পরিচয় একবারে অজানা নয়, প্রশাসন চাইলেই আমরা চিরিরবন্দরের বর্তমান প্রজন্ম সকল ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। বাবার ঘাতক খুনি রেজওয়ান যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি পায় আশা করি সে ব্যাবস্থা করবেন। ওর শাস্তি যেন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে
চিরিরবন্দরের সচেতন মহলের প্রতি অনুরোধ, আজ ইমদাদুল ভাই, কাল অন্য কেউ? হয়তো সন্তানের হাতে মৃত হবে না, কিন্তু সন্তানের দেয়া মানসিক যন্ত্রণায় ভূগছে হাজারো পরিবার। আজ মাদক সেবীর সংখ্যা ১০ জন এরাই আগামীতে ১০০ জনে পরিনত হবে। কি করবেন আপনি সবকিছু দেখেও মাথা নিচু করে চলে যাবেন নাকি সমাজটাকে বাঁচাতে ঐক্যবদ্ধ আওয়াজ তুলবেন?
সময় এসেছে সিন্ধান্ত নিন, মাদকসেবিরা বন্ধু নয় এদের পরিত্যাগ করুন। একায় সাহস না পেলে আমাদের সাথে থাকুন, সামাজিক ভাবে বয়কট করুন, নতুবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে সোপর্দ করুন।

হাজার শিক্ষার্থীদের শিক্ষক তিনি

-কৃষিবিদ মন্জুর আলী শাহ
দিনাজপুর প্রতিনিধি, বাংলা টিভি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.