
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে তাঁর চেয়ার দখলের অভিযোগে করা মামলায় সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
একেএম আজহারুজ্জামান মুকুল সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি বল্লী ইউনিয়ন শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এবং বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
মামলার বাদী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার আমলী আদালত-১ এ একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৭১/২৪)। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিআইডিকে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুজ্জামানকে জোরপূর্বক কক্ষ থেকে বের করে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তাঁর চেয়ার দখল করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে কয়েকজন বহিরাগত বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন।
ঘটনার দুটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। একটি ভিডিওতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বহিরাগত কয়েকজনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর করে বের করে দিতে দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে অভিযুক্ত শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, “আমার রাজ্যে আমি রাজা, কারও কথা শোনার সময় আমার নেই।” একই সঙ্গে তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, জামিলুজ্জামানকে আর ওই চেয়ারে বসতে দেওয়া হবে না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি তদন্ত করে সিআইডির কর্মকর্তা মাছুদ পারভেজ ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
এর আগে অভিযুক্ত মুকুল উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন করলে তাকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার আরও দুই আসামি মহব্বত খাঁ ও আজমল হোসেন জামিন আবেদন করলে আদালত তাদেরও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তারা জামিনে মুক্তি পান।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ বলেন, অভিযুক্ত আজহারুজ্জামান মুকুল দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জামিলুজ্জামানকে লাঞ্ছিত করে অবৈধভাবে প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করেন। সিআইডির তদন্তেও বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মুকুল সহকারী শিক্ষক হলেও দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর বিদ্যালয়ে অনিয়মিত ছিলেন। বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও বেতন-ভাতা তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, জামিলুজ্জামান ২০০২ সালে বল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে ২০২২ সালে পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন এবং এমপিওভুক্ত হন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় বিধি অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।