দিনাজপুরে কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে যেভাবে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ 

দিনাজপুরে কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে যেভাবে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ 

দিনাজপুর প্রতিদিন দিনাজপুরের খবর মানুষের চাহিদা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা

দিনাজপুরে কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে যেভাবে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ 

কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় যেসব এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে তার মদ্ধ্যে “Ultrapime IV/IM 1gm/vial” , “Cleven 20 20mg/0.2ml”, “Cleven40 40mg/0.4ml”, “Cleven 60 60mg/0.6ml”, “Cleven 80 80mg/0.8ml”, “Maxquin 400 IV 400mg/250mg “,  ইত্যাদি ওষুধ/ইনজেকশন।

যেহেতু দেশে করোনা রোগীর সংখা বেশি এবং এসকল ওষুধ/ইনজেকশন চাহিদার তুলনায় কিছুটা কম রয়েছে সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্র বিভিন্ন ভাবে রোগীকে/গ্রাহকে প্রতারিত করছেন।

যেভাবে গ্রাহক প্রতারিত হচ্ছেনঃ

করোনা ইউনিট এ ভর্তির সাথে সাথে আপনার কাছে কিছু লোকজন আসতেছেন আপনাকে সাহায্য করতে। তারা আসলে করোনা ইউনিট বা হাসপাতালের কোন কর্মী নন। তারা হচ্ছেন হাসপাতালের বাহিরে যেসব ফার্মেসি রয়েছে তাদের লোকজন। ভর্তির পর যখন ডাক্তার রা প্রেসক্রিপশন করতেছেন এবং নার্স আপনাদেরকে বলতেছেন যে এইসকল ওষুধ নিয়ে আসেন রোগীকে দিতে হবে, ঠিক তখনেই আপনাকে এতক্ষন অচেনা যেই ব্যাক্তি সাহায্য করতেছিলেন তিনি বলে উঠবেন- আমার সাথে আসুন স্বল্প দামে এই ওষুধ গুলা অমুক ফার্মেসি তে পাবেন এই সেই।  এতক্ষন সাহায্য করল সেই সুবাদে আপনি যখন তার সাথে যাবেন তখনেই আপনি কয়েকভাবে প্রতারিত হবেন।

 

  1. তার সাথে ফার্মেসিতে যাওয়ার পর উনি আপনাকে সেই ওষুধ/ইনজেকশন গুলো দিবেন এবং যেখানে “Ultrapime IV/IM 1gm/vial”  কম্পানির দেওয়া মূল্য রয়েছে ৫৫০ টাকা, কম্পানির সেই মুল্যকে মুছে তারা সিল টেপিং করে মূল্য নিজেদের মতো করে রেখেছেন। ( যেমন আমার কাছে প্রথম দিন ৫৫০ টাকার “Ultrapime IV/IM 1gm/vial” নিয়েছিলো ১১০০ টাকা , পরে DIMS App এর মাধ্যমে জানতে পারি  “Ultrapime IV/IM 1gm/vial” এর মূল্য ৫৫০ টাকা)
  2. আপনি যখন সেই ওষুধ/ইনজেকশন নিয়ে নার্সের কাছে আসবেন তখন নার্স আপনাকে বলবেন এইটা খোলা কেনো, কোথা থেকে নিয়েছেন এইটা ইত্যাদি । মানে হচ্ছে ৫৫০ টাকার ওষুধ/ইনজেকশন যখন আপনি প্রতারিত হয়ে ১১০০ টাকা দিয়ে কিনলেন তখন দেখা যাচ্ছে আপনাকে ইন্টেক পণ্যটি দেয় নাই, নকল ওষুধ/ইনজেকশন দিয়েছেন। ( যেমনঃ প্যকেটটি খোলা থাকবে এবং প্যাকেট এর ভিতরে ওরিজিনাল “Ultrapime IV/IM 1gm/vial” এর পরিবর্তে অন্য কিছু থাকবে )
  3. এমন অবস্থায় আপনি যখন তাকে (সেই অচেনা ব্যাক্তি যিনি আপনাকে হেল্প করলো এতোক্ষন ) খুঁজতে যাবেন তখন  তাকে আর খুজে পাবেন না। যদি ভাগ্যবসত খুঁজেও পান তাহলে তিনি তখন আর আপনাকে চিনবেন না।
  4. সমস্যা কি যেই ফার্মেসি থেকে কিনেছেন তার কাছে যাই। ফার্মেসিতে গেলে ফার্মেসি মালিক আপনাকে বলবেন এইটা তোহ আমাদের পণ্য না, আপনি ভাউচার দেখান।
  5. আবার দেখা যাচ্ছে আপনাকে ডাক্তার লিখছেন “Cleven40 40mg/0.4ml” । এইটা ফার্মেসির কাছে না থাকার কারনে উনি আপনাকে “Cleven 60 60mg/0.6ml” দিয়ে দিয়েছেন। অথবা অন্য কন কম্পানির ওষুধ/ইনজেকশন দিয়েছেন। এবারও আপনি প্রতারণার শিকার হলেন।

প্রতারণার হাত থেকে বাচার উপায়ঃ 

  • রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে এডমিট হওয়ার পর আপনাকে কেউ সাহায্য করতে আসলে তাকে ততোক্ষণ সাহায্য করতে দিন যতক্ষন না পর্যন্ত উনি আপনাকে কোন কিছুর জন্য সাজেস্ট না করেন।
  • পছন্দ মতো/চেনাপরিচিত ফার্মেসি থেকে ওষুধ/ইনজেকশন সংগ্রহ করুন, কম্পানির দেওয়া মূল্য তালিকা দেখে মুল্য দিন।
  • ডাক্তার যেই ওষুধ/ইনজেকশন লিখেছেন সেটাই ক্রয় করুন। যেই mg/ml এর ওষুধ/ইনজেকশন লিখেছেন সেটা ঠিক আছে কি না তা দেখে নিবেন।
  • ওষুধ/ইনজেকশন ইন্টেক আছে কি না সেটা খেয়াল রাখবেন, কোন কারনে ফার্মেসি থেকে খোলা ওষুধ/ইনজেকশন দিলে সেটা ক্রয় হতে বিরত থাকুন।
  • ফার্মেসি থেকে ওষুধ/ইনজেকশন কেনার সময় অবশ্যই ভাউচার সংগ্রহ করুন।

করোনা ইউনিট এ ডাক্তার অথবা নার্স যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করেন। রাউন্ডে ডাক্তার আসলে একজন রোগীকে অনেক সময় ধরে দেখেন, যেটাতে সকলেই সেটিসফাই। রোগীর সমস্যা বেশি হলে ডাক্টারকে/নার্স কে ডাক দেওয়ার সাথে সাথেই উনারা  রোগীর কাছে আসেন এবং যা যা করণীয় তাই করেন। “এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, দিনাজপুর” এর করোনা ইউনিট এ ডাক্তার অথবা নার্স কে নিয়ে আমি মনে করি যে, কেউ কোন অভিজোগ করার সুযোগ পাবেন না।  কেননা তারা অভিযোগ করার মতো কোন খারাপ ব্যবহার, অবহেলা, ইত্যাদি কোনটাই করেন না। কোন ভাবে প্রতারিত হলে ডাক্তার কে জানিয়ে দিবেন । তারা তাৎক্ষণিক ভাবে কোন একটা সমাধান করে দিবেন। সেবা নিন সুস্থ থাকুন।

দিনাজপুরে কোভিড ১৯ আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে যেভাবে প্রতারিত হচ্ছে মানুষ 

Dinajpur Today Facebook Page and Group

Leave a Reply

Your email address will not be published.