নুরের সহযোগীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির দ্বারে জাফরুল্লাহ

নুরের সহযোগীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির দ্বারে জাফরুল্লাহ

দিনাজপুর প্রতিদিন দিনাজপুরের খবর রাজনীতি ও জনগন

নুরের সহযোগীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির দ্বারে জাফরুল্লাহ

ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের ৫৪ নেতা-কর্মীর মুক্তি দাবি করেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাঁরা যেন ন্যায়বিচার পান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে মৌখিকভাবে এই আবেদন জানিয়েছেন তিনি৷

গত মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ-সহিংসতার প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই ৫৪ জন।

তাঁদের মুক্তির দাবিতে আজ সোমবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও নাগরিকবৃন্দ’ ব্যানারে সমাবেশ হয়৷ সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে যান রাজনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা৷

সুপ্রিম কোর্টের মাজারসংলগ্ন ফটকের সামনে ঘণ্টাখানেক অবস্থান করেন তাঁরা। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে সেখানে ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ দুই শতাধিক ব্যক্তি।

সুপ্রিম কোর্টের ফটকে দফায় দফায় পুলিশ ও কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের আলোচনা চলে৷ বেলা ২টা ১৮ মিনিটে পুলিশ তাঁদের একটি প্রতিনিধিদলকে আদালত এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিলে তাঁরা ভেতরে যান।

জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, রেজা কিবরিয়া, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক ও মোস্তাফিজুর রহমান। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন আদালতে না থাকায় রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবরের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা৷ আলোচনা শেষে বেলা তিনটা নাগাদ তাঁরা বেরিয়ে আসেন৷

বের হওয়ার পর ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক বলেন, ‘দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে গ্রেপ্তার ৫৪ জনের প্রতি ন্যায়বিচারের আবেদন করা হয়েছিল৷ কিন্তু তাঁদের জামিন দেওয়া হচ্ছে না৷ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে আমরা সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের সঙ্গে কথা বলেছি৷ সামনে যে জামিন শুনানি রয়েছে, সেখানে যেন কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা না হয়, ৫৪ জন যেন ন্যায়বিচার পান, মূলত এই বিষয়টিই রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতিকে বলা হয়েছে৷

বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশে আসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর এই সফরের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছিলেন নুরুল হক নুরের সংগঠন এবং জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ তাঁদের সমমনারা। পরে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী মোদির সফরবিরোধী আন্দোলন শুরু করলে একপর্যায়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। টানা তিন দিন পুলিশের সঙ্গে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়।

এরপর নুরের সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি দেশজুড়ে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা এবং তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সমাবেশে যা হলো

সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার আগে শাহবাগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের ছাত্ররা দিনের আলোটা সবার আগে দেখতে পায়৷ তাই তারা সাম্প্রদায়িক নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল৷ ছাত্ররা ন্যায্য কাজই করেছে, তারা তাদের দায়িত্ব পালন করেছে৷ তা করতে গিয়ে তারা জালেম সরকারের অন্যায়ের শিকার হয়েছে।

গোয়েন্দাদের কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সত্যটা জানতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘দুটি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা বাহিনী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও করে রেখেছে৷ রাষ্ট্র দুটি হলো ইসরায়েল ও ভারত৷ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ঘেরাও করে রাখার পেছনে একটি দীর্ঘ পরিকল্পনা আছে৷ একটি হলো এই দেশকে কীভাবে সিকিমে পরিণত করা যায়৷ আরেকটা পরিকল্পনা অমানবিক রাষ্ট্র ইসরায়েলের৷ তার প্রমাণ বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে “ইসরায়েল ব্যতীত” বাদ দেওয়া৷ কারণ ইসরায়েল থেকে তারা কথা শোনার যন্ত্র এনেছে।’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে এক বছরের বেশি সময় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সমালোচনা করেছেন জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে তিনি বলেন, ‘তাঁর প্রতি আহ্বান জানাই, সব বিরোধী দলকে ডাকুন৷ আগামীকাল থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিন। একটা জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষাকে ধ্বংস করতে হয়৷ সবকিছু খোলা অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ৷ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে কোনো ক্ষতি হবে না৷ আইন-কানুন মেনে প্রয়োজনে আমরা দুই-তিন শিফটে যাব৷ কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিন৷ তা না হলে জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে৷ তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনি।’

সমাবেশে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম যেসব ছাত্র জেলে আছেন, তাঁদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং মুক্তি দাবি করেছেন৷

তিনি বলেন, ‘সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি আবেদন, মানবিকতা প্রদর্শন করুন৷ কোন সময় কার দয়ার প্রয়োজন পড়ে, তা তাঁরা জানেন না৷ পৃথিবীর সব স্বৈরশাসক এমন নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছিলেন৷ কারণ ক্ষমতায় থাকাকালে তাঁরা অন্যের প্রতি নিষ্ঠুর ছিলেন।’

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ১৩ বছর ধরে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আছে৷ কত নেতা-কর্মী জেলে আছে, কত মানুষকে বিনা বিচারে সাজা দেওয়া হয়েছে, তার কোনো হিসাব নেই৷ হাজারখানেক লোক ক্রসফায়ারে মারা গেছে৷ একটা ‘জালিম সরকার’৷ তারা কোনো আইনের ধার ধারে না৷ মানুষের প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা নেই। এই সরকারের পতনের আন্দোলন ছাড়া কোনো অধিকার আদায় হবে না।

রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘সরকারের আত্মবিশ্বাস এত কম যে ৫৪ জন ছেলে রাস্তায় একটা স্লোগান দিলে তারা নড়বড়ে হয়ে যায়৷ যত দিন প্রয়োজন, আমরা ওদের জন্য দাঁড়াব৷ ওদের আমরা জেল থেকে বের করে আনবই৷ আমরা এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাই৷’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর ও সাদেক আহমেদ খান, লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট রাখাল রাহা, যুব অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক আতাউল্লাহ, ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও গ্রেপ্তার কয়েকজন নেতা-কর্মীর অভিভাবকেরা বক্তব্য দেন৷

নুরের সহযোগীদের মুক্তির জন্য প্রধান বিচারপতির দ্বারে জাফরুল্লাহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *