সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করি না: সংসদে জামায়াত আমির

  • Reporter Name
  • Update Time : 03:48:50 pm, Saturday, 27 June 2026
  • 5 Time View

সরকারি দল সব ক্রেডিট (কৃতিত্ব) নেবে আর বিরোধীদল সবকিছুতে শুধু বিরোধিতাই করবে— ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে এই কালচার সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারিদলকেও বিরোধীদলকে সম্মান করতে হবে। আর বিরোধীদলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই এবং তা বাস্তবায়ন করতে চাই। এক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, সরকারকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা সকল সহযোগিতা করব।’

প্রধানমন্ত্রী যে দুটি দেশ সফর করেছেন, উভয় দেশকেই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ। আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। ব্যবধান টা অনেক বড় আমাদের রপ্তানির মূল দুটি খাত — তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও জনশক্তি। একে বহুমুখী (ডাইভার্সিফাই) করার যথেষ্ট সুযোগ আমাদের রয়েছে। এর জন্য দরকার স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই দুটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’

বিরোধীদলীয় নেতা পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। দেশের স্বার্থ আগে। তারপর কারোর সাথে চুক্তিই হোক বা যাই হোক, সেটা হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, কিন্তু আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। এই ভারসাম্য রক্ষা করেই আগামীর পলিসি যেন পরিচালিত হয়।’

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ এই সংসদ যেন সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়। সংসদকে বাইপাস (পাশ কাটিয়ে) করে যেন কিছুই না হয়, সবকিছু হোক সংসদের ভেতরে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করি না: সংসদে জামায়াত আমির

সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করি না: সংসদে জামায়াত আমির

Update Time : 03:48:50 pm, Saturday, 27 June 2026

সরকারি দল সব ক্রেডিট (কৃতিত্ব) নেবে আর বিরোধীদল সবকিছুতে শুধু বিরোধিতাই করবে— ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে এই কালচার সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারিদলকেও বিরোধীদলকে সম্মান করতে হবে। আর বিরোধীদলেরও দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে তার জায়গা থেকে যথাযথ ভূমিকা রাখা।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবটিকে সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই দেশ আমাদের সবার। আমরা স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই এবং তা বাস্তবায়ন করতে চাই। এক্ষেত্রে বিরোধী দল হিসেবে আমাদের যেটুকু করণীয়, সরকারকে আশ্বস্ত করছি যে আমরা সকল সহযোগিতা করব।’

প্রধানমন্ত্রী যে দুটি দেশ সফর করেছেন, উভয় দেশকেই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তবে দেশের বাণিজ্য ঘাটতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি আমদানিনির্ভর দেশ। আমাদের রপ্তানির চেয়ে আমদানি অনেক বেশি। ব্যবধান টা অনেক বড় আমাদের রপ্তানির মূল দুটি খাত — তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও জনশক্তি। একে বহুমুখী (ডাইভার্সিফাই) করার যথেষ্ট সুযোগ আমাদের রয়েছে। এর জন্য দরকার স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আশা করি, প্রধানমন্ত্রী তার সফরে এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই দুটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’

বিরোধীদলীয় নেতা পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটা আমরা কখনো মেনে নেবো না। দেশের স্বার্থ আগে। তারপর কারোর সাথে চুক্তিই হোক বা যাই হোক, সেটা হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। আমরা কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, কিন্তু আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে চাই না। এই ভারসাম্য রক্ষা করেই আগামীর পলিসি যেন পরিচালিত হয়।’

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব মৌলিক চুক্তি সংসদে নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ এই সংসদ যেন সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়। সংসদকে বাইপাস (পাশ কাটিয়ে) করে যেন কিছুই না হয়, সবকিছু হোক সংসদের ভেতরে।’