সাভারের আশুলিয়ায় মা ও ভাইসহ আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও টিকটকার প্রিয়া খান (২২)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোনার একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য দুজন হলেন প্রিয়ার মা হাফসা আখতার (৪২) ও ভাই স্বাধীন মিয়া (২৮)।
গ্রেপ্তারের পর রাত ১টার দিকে আসামিদের আশুলিয়া মডেল থানায় নিয়ে আসা হলে সেখানে শত শত উৎসুক জনতা ও এলাকাবাসী ভিড় জমান। এ সময় উত্তেজিত জনতা তাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং আসামিদের থানার গাড়িতে তুলতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রিয়া তার মা ও ভাইয়ের সহযোগিতায় প্রভাবশালী ও উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো এবং মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করাই ছিল এই চক্রের মূল উদ্দেশ্য। এলাকাবাসীর দাবি, এ ধরনের অন্তত ৪২টি অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি এখনো কয়েকজন ব্যক্তি প্রিয়ার করা মামলায় কারাভোগ করছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি নিয়মিত বাসা পরিবর্তন করত এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের টার্গেট করে ‘কাস্টমার’ বানাত। পরে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে ধর্ষণ মামলার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হতো।
নেত্রকোনার আকপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম জানান, তমা আক্তার নামে এক নারীর দায়ের করা মামলায় প্রিয়া খানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ওই থানায় তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও হয়রানির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
আশুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ থাকলেও নারী হওয়ার সুযোগে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই বেপরোয়া ছিলেন। লোকলজ্জা ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক ভুক্তভোগী মুখ খুলতে সাহস পাননি।
তিনি আরও জানান, নেত্রকোনার আকপাড়া থানার একটি মামলার ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের হেফাজতে নিতে ইতোমধ্যে আশুলিয়া থানায় পৌঁছেছেন।
Reporter Name 

