ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ডাকসুর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতার অভিযোগ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক সামনে আসে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ডাকসুর একাংশ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাদিক কায়েম, এস এম ফরহাদ ও মহিউদ্দিন খানসহ কয়েকজন সদস্য। অভিযোগ উঠেছে, ওই আয়োজনে মূলত একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের সংশ্লিষ্টরাই অংশ নেন। তবে ডাকসুর অন্যান্য সদস্য—ফাতিমা তাসনিম জুমা, সর্বমিত্র চাকমা, হেমা চাকমা, উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়াসহ কয়েকজন—এ বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিলেন না।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লাইভ সম্প্রচার দেখে জানতে পারেন যে ডাকসুর পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে।
এদিকে ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা সরাসরি সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, শহীদ মিনারে কখন এবং কীভাবে ফুল দেওয়া হবে—এ বিষয়ে দুইবার জানতে চাওয়ার পর তাকে জানানো হয় যে কেবল সিনেট সদস্যরা রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে অংশ নেবেন। তবে পরবর্তীতে দেখা যায়, ওই ‘সিলেক্টিভ পাস’ অন্যদের কাছেও ছিল, কিন্তু ডাকসুর সকল সদস্যকে জানানো হয়নি।
জুমা আরও অভিযোগ করেন, প্রভাতফেরীর আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ করলেও সংশ্লিষ্ট চিঠি কেবল ভিপি, জিএস ও এজিএসের কাছে যায় এবং তা অন্য সদস্যদের সঙ্গে যথাযথভাবে শেয়ার করা হয়নি। পরবর্তীতে তিনি নিজ উদ্যোগে বিষয়টি জেনে গ্রুপে নোটিশ দেন।
তিনি বলেন, “ডাকসুর পক্ষ থেকে যদি সিনেট সদস্যরা ফুল দেন—এমন পরিকল্পনা থাকত, তাহলে সেটি আগে থেকেই গ্রুপে জানানো যেত। তাহলে ভুল বোঝাবুঝি বা বিতর্ক তৈরি হতো না।”
জুমা মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সহজেই সমাধান করা যেত। তার ভাষায়, প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও যদি অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সঠিকভাবে না হয়, তাহলে অন্য সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
সবশেষে তিনি ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্ব—ভিপি, জিএস ও এজিএসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ডাকসু শিক্ষার্থীদের আমানত। সম্পাদক হিসেবে আমার দায় রয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাব দেওয়ার। তবে বিষয়গুলো সহজ করা হলে এমন ‘সিলি ইস্যু’ নিয়ে কথা বলতে হতো না।”
ঘটনাটি নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ডাকসুর শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন