নরসিংদীর মাধবদীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। আলোচিত এই ঘটনায় কিশোরীর সৎপিতা আশরাফ আলী তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা আদালতে জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ কয়েকজন কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সালিশ বা বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ঘটনায় অপমানিত বোধ করায় কিশোরীর সৎপিতা আশরাফ আলী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পুলিশের দাবি, অপমান থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে কিশোরীকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যান আশরাফ আলী। পরে তাকে একটি সরিষা ক্ষেতের কাছে নিয়ে গিয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
ঘটনার পর নিজেকে আড়াল করতে এবং হত্যার দায় অন্যদের ওপর চাপাতে নূর মোহাম্মদ নূরাসহ অন্যদের জড়িত দেখিয়ে মিথ্যা নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন বলে জানায় পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাধবদীর একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা ফাহিমা বেগম বাদী হয়ে নূর মোহাম্মদ নূরাসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।
আলোচিত এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১ মার্চ সাত আসামিকে আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করলেও হত্যার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় পুলিশ সৎপিতা আশরাফ আলীর ওপর নজরদারি শুরু করে।
পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে বলে জানায় পুলিশ।
মন্তব্য করুন