গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় সামাজিক বনায়নের গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ভুয়া টেন্ডারের অভিযোগে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ৮৫৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কাটার ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বকর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, উপজেলার ১ নম্বর কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের পাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় রোপণ করা ইউক্যালিপটাস গাছগুলো সম্প্রতি কাটা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ভুয়া সমবায় সমিতি ও গোপন যোগসাজশের মাধ্যমে মনগড়া টেন্ডার দেখিয়ে এসব গাছ কর্তন করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গাছগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা হলেও টেন্ডারে মাত্র ৩৩ লাখ টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেলকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটি অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করে। এ সময় অভিযোগকারী দুই ব্যক্তির বক্তব্যও শোনা হয়।
তদন্তকালে দরপত্র প্রক্রিয়ায় গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য উঠে আসে। কাগজপত্রে পাঁচজন দরদাতার অংশগ্রহণ দেখানো হলেও তালিকার ৩ থেকে ৫ নম্বরে থাকা মেসার্স অওজা ট্রেডার্স, মেসার্স আতোয়ার ট্রেডার্স এবং মেসার্স ইমি ট্রেডার্সের কর্ণধাররা তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে দাবি করেন, তারা কেউই ওই দরপত্রে অংশ নেননি।
তারা বিষয়টি লিখিত ও মৌখিকভাবে তদন্ত কমিটিকে অবহিত করেছেন। এ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যুক্ত করেই অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ এক প্রতিবাদী বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে যথাযথভাবে দরপত্র আহ্বান, যাচাই-বাছাই এবং সর্বোচ্চ দরদাতার পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সব কার্যক্রম নিয়মনীতি ও প্রশাসনিক বিধান অনুসরণ করেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন সোহেল জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিনে তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে, যারা দরপত্রে অংশ না নেওয়ার দাবি করেছেন। তদন্ত শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
এদিকে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে। জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন